Welcome To MCB

4.4
(10)

Publish News, Views, Consciences, Etc. 

mcb post icon

সৌদি আরবে গ্রেফতার পাঁচ শতাধিক, বেধড়ক পিটুনি ও নির্যাতনের অভিযোগ
0
(0)

cd1c8b3a2834cf86d7662133432b0eb7-5a05ba8ae954e.jpgসৌদি আরবে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজপরিবার থেকে ২০১ জনকে আটকের কথা জানানো হলেও আটককৃতদের প্রকৃত সংখ্যা ৫ শতাধিক। রাজ দরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে। তারা বলছে, আটককৃতদের  মধ্যে কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির ওপর বেধড়ক পিটুনি ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় এতোটাই বাজেভাবে পেটানো ও নির্যাতন চালানো হয়েছে যে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

সৌদি আরবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ৪ নভেম্বর শনিবার থেকে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২০১ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযানের প্রথম দিনেই ধনকুবের প্রিন্স আল আলওয়ালিদ বিন তালালসহ ১১ জন প্রিন্সকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল সৌদ আল-মোজেব এক বিবৃতিতে জানান, শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ২০৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০১ জন এখনও আটক রয়েছেন। আটককৃতদের বেশিরভাগকেই রাখা হয়েছে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে।

রাজ দরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আটককৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সবাইকে না হলেও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্লাসিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। এতে কেবল তারা শরীরে আঘাত পাচ্ছেন কিন্তু মুখে আঘাতের কোনও ছাপ নেই। সেকারণে পরবর্তীতে যখন তারা জনসমক্ষে আসবেন তখন তারা শারীরিক আঘাতের কোনও চিহ্ন দেখাতে পারবেন না। কতিপয় আটককৃতকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশের জন্য নির্যাতন করা হয়েছে। মিডল ইস্ট এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের ধরনের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

.

দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযান আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা আগের বাদশাহ আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক বেশি কাজ করছে। ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় মারা যান বাদশাহ আব্দুল্লাহ। এরপর সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ সৌদি আরবের বাদশাহ নিযুক্ত হন। অনেকের আশঙ্কা, দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার প্রচেষ্টা। ৮১ বছর বয়সী বাবা বাদশাহ সালমানের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আগে হাউস অব সৌদের ভেতরের ও বাহিরের সকল শত্রুকে সরিয়ে দিতে চান তিনি।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার আটক হয়েছিলেন এমন সাত রাজপুত্রকে বুধবার রাতে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই আরও জানায়, রাজপরিবারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে বাদশাহর প্রাসাদে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুবরাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ যিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন, তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সুলতান বিন আব্দুলআজিজেরও। তার ছেলেদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

.

যুবরাজ হওয়ার আগে মোহাম্মদ বিন সালমান শপথ নিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, দুর্নীতির মামলায় কেউ টিকতে পারবে না-সে যেই হোক না কেন। এমনকি তিনি যদি রাজপুত্র কিংবা মন্ত্রীও হন তবুও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যারা এখনও আটক হননি তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন তার জন্য তাদের প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। রিয়াদের এক সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, বন্ধ করে দেওয়া অ্যাকাউন্ট এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়া ব্যক্তিদের সংখ্যা আটককৃতদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। হাউস অব সৌদের এতো জ্যেষ্ঠ রাজপুত্রদের ওপর এই মাত্রার ধরপাকড় অভিযান চালানো তা কেউ ভাবেনি। আর সেকারণেই তারা পালানোর সময় পায়নি এবং ধরা পড়েছে।

সৌদি রাজতন্ত্রের আধুনিক ইতিহাসে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘটনা নজিরবিহীন। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজ পরিবারের ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। কিন্তু তা এখন ভেঙে পড়েছে।

14 views

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

নূর হোসেনকে হত্যা করেছে আন্দোলনকারীরাই: রওশন এরশাদ

0
(0)

4cfd7329e4207423dbb4617f47d823d0-5a05ae46241ff.jpgজাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীরাই নূর হোসনকে হত্যা করেছে। কারণ লাশ ছাড়া আন্দোলন জমে না। এরশাদ হত্যা করেননি নূর হোসেনকে।’ শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রওশনের দাবি, ‘এ দেশে ১৯৮৬ সালে গণতন্ত্র চালু করে জাতীয় পার্টি। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আবার গণতন্ত্র রক্ষা করেছিল আমাদের দল। অথচ এরশাদকে বলা হয় স্বৈরাচার। তিনি যদি স্বৈরাচারই হবেন, তাহলে মানুষ কেন তাকে ভোট দেয়? এরশাদ স্বৈরাচার নন, তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষ। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাই মানুষ তাকে বারবার ভোট দেয়।’
সরকারের সমালোচনা করে সংসদের এই বিরোধী দলীয় নেতার ভাষ্য, এখন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। তার মন্তব্য— ‘মানুষ এখন ঘর থেকে বেরিয়ে আবার ফিরতে পারবে কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই। গত পাঁচ বছরে ৫১৯ জন গুম হয়েছে। কারা তাদের গুম করেছে?’ উপস্থিত নেতাকর্মীরা তখন উত্তরে বলেন— ‘সরকার! সরকার!’
গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় পার্টি। এখানে আরও ছিলেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, এস এম ফয়সাল চিশতি, সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।

এদিকে আগামী ৩ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হু. মু. এরশাদ চিকিৎসার জন্য আবারও সিঙ্গাপুর যাবেন বলে জানান রওশন।

18 views

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

ইনুর খুঁটির জোর কোথায়?

0
(0)

5b25a6c744b9f8affc85dee4eea9567a-5a05cc640032b.jpgসম্প্রতি জনসভায় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগকে ‘তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য’ করে বক্তব্য দেওয়ায় জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কঠোর সমালোচনা করেছেনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নেতারা। নিজস্ব কোনও স্বার্থ হাসিলে এই বক্তব্য এসেছে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলে  এই নেতারা বলেছেন, তথ্যমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে প্রায়ই এ ধরনের ‘উল্টোপাল্টা’ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা এ ধরনের বক্তব্যের উৎস কী, তার খুঁটির জোর কোথায়, তা জানতে চেয়েছেন। শরিক দলের নেতারা ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে হাসানুল হক ইনু ও তার দল জাসদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবেন বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা কুষ্টিয়ার এক জনসভায় আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যের বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শরিক দলের সদস্যরা এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী গত বুধবার কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্থানীয় জাসদ আয়োজিত এক জনসভায় স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এক টাকার মালিক নন, ৮০ পয়সার মালিক। এরশাদ, ইনু, দিলীপ বড়ুয়া ও মেননকে নিয়ে আওয়ামী লীগের একটাকা হয়েছে। আমরা না থাকলে ৮০ পয়সা নিয়ে রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরতে হবে। হাজার বছরেও ক্ষমতার মুখ দেখবেন না।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে ইনু বলেন, ‘আমরা চুপ করে সব সহ্য করি বলেই আমাদের দুর্বল ভাববেন না। আমাদেরও শক্তি আছে।’

এর আগে গত ১ নভেম্বর মিরপুরের একই মাঠে এক সমাবেশে জাসদ ও হাসানুল হক ইনুর তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা জাসদকে ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’ বলেছিলেন। এর জবাব দিতেই বুধবার জাসদ পাল্টা শোডাউনের আয়োজন করে।

ইনুর বক্তব্যের পরদিনই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম তার কড়া জবাব দেন।

বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইনু সাহেব অভিমান ও ক্ষোভ থেকে বোমা ফাটিয়েছেন। এ অভিমান কেন? তিনি নিজেও জানেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে কী হবে? আগে নির্বাচন করে তো টেস্ট করা হয়েছে। আমরা শরিক, নির্বাচন একসঙ্গে করব।’

একইদিনে সিরাজগঞ্জে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেছেন, ‘বেশি মানুষ দেখে আবেগের বশে বেহুঁশ হয়ে যে কেউ মন্তব্য করতে পারেন। সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এরসঙ্গে ১৪ দলের কোনও সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই বার বার নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে, কারও অনুকম্পায় নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কোনও বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করার সময় এটা নয়।’ তিনি বলেন, ‘মহাজোটের সব দলেরই পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। মহাজোটের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কোনও আচরণ করা উচিত নয়। এরপরও শরিকদের মাঝেমধ্যে কেউ কেউ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, কটাক্ষ ও অবহেলা করে থাকেন। অনেকেই উদাসীনতা প্রকাশ করেন। এটা ঐক্যের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

আওয়ামী লীগের দুই নেতার এই বক্তব্যের পরপরই তথ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে তার বক্তব্যের বাখ্যা দেন। মহাজোটের ঐক্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই চিন্তা থেকেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন বলে তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ক্ষতি হলে বাংলাদেশও রক্তাক্ত আফগানিস্তান হবে। আমি ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি।’

জাসদ সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১৪ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ‘ইনু তো প্রায়ই এ ধরনের উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। আমার মনে হয়েছে, তার অন্যান্য বারের মন্তব্যের চেয়ে এবারের মন্তব্য খুব কঠিন হয়েছে। কোন পরিপ্রেক্ষিতে, কেন, কী স্বার্থে  তিনি এবার এ ধরনের কথা বললেন, এটা তিনিই বলতে পারবেন। তার খুঁটির জোর জোর কোথায়, জানি না। বুঝতে পারছি না, তিনি কোনও শক্তিতে বলছেন, তারা না থাকলে আওয়ামী লীগ হাজার বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এটা আমার বোধগম্য নয়।’ এই বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলকে ‘তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য’ করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ন্যাপ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জোটে তো আরও দল হয়েছে কিন্তু তিনি কেন কেবল মেনন, দিলীপ বড়ুয়া আর এরশাদের নাম বলেছেন। তাহলে কি তিনি ১৪ দলের অন্য শরিক দলের কোনও ভূমিকা নেই? এটা আসলে এক ধরনের স্ট্যান্টবাজি। সামনে নির্বাচন। হয়তো চাপ দেওয়ার জন্য এসব কথা বলছেন। স্থানীয় নির্বাচনের বিষয় রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্তব্যটা যেহেতু আওয়ামী লীগকে নিয়ে করা হয়েছে। সেহেতু আওয়ামী লীগের উচিত হবে, এর ব্যাখ্যা চাওয়া। তারা ১৪ দলীয় ফোরামে বিষয়টি তুলতে আমরাও এটা নিয়ে কথা বলব। আর জোটে আরও দল থাকতে কেন তিনি তিনটি দলের নাম বললেন, আমরা শরিকরা তার কাছে সেই ব্যাখ্যা চাইব।’

জাসদ একাংশের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘তার কথাবার্তার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। একটা বলেন তো একটু পরে তার থেকে সরে আসেন। এবারও দেখলাম প্রথমে বক্তব্য দিলেন, পরে মন্ত্রণালয় বসে তার অবস্থান পরিবর্তন করলেন। যিনি একটা কথা বলে পরদিন আবার মাফ চান, তার বক্তব্যকে বেশি আমল দিতে চাই না। তবে, এটুকু বলব, তার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই। ১৪ দলের সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও হতাশা থেকে এই ধরনের ভারসাম্যহীন বক্তব্য আসতে পারে। এত কিছুর পরও প্রধানমন্ত্রী কেন তাকে মন্ত্রিসভায় রেখেছেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, ‘একজন সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতা হয়ে এভাবে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য না দিলেও পারতেন। তিনি যদি কোনও কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, তাহলে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন। প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারতেন। কারও ওপর ক্ষোভ থাকলে সেটা বললেও কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতো। কিন্তু এভাবে পুরো আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে কথাটা বলা ঠিক হয়নি। এটা আরও সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। আশি পয়সা/বিশ পয়সা এ ধরনের কথাগুলো খুবই দৃষ্টিকটু হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘শরিক হিসেবে স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে আমার সঙ্গেও এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বিভিন্ন সময় হয়। আমরা তো এভাবে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার জবাব দেই না।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উচিত, ছোট দলগুলোর সঙ্গে সহনশীল আচরণ করা। আর আমাদের এমন কোনও কথা বলা উচিত না, যেন বিরোধী শক্তির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার (ইনুর) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য তার দেওয়াটা উচিত হয়নি। জোটে ঐক্য বিনষ্ট হতে পারে এ ধরনের কথা কারও বলা উচিত নয়। ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক হলে আমরা এ বিষয়ে তার কাছে এর ব্যাখ্যা চাইব।’

গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ‍নুরুল রহমান সেলিম বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাসদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। সেখানে মাঝে-মধ্যে মারামারিও হয়। আমার মনে হয়, এর জের ধরে এই বক্তব্য এসেছে। তবে, বক্তব্যটা বেশি কড়া হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘১৪ দলের বৈঠক হলেই এই বিষয় নিয়ে সবার আগে আলোচনা হবে। আমরা এটা নিয়ে কথা বলব। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলে দিয়েছেন, ১৪ দলের বৈঠক ডেকে এই বিষয়টি যেন মীমাংসা করা হয়, তার ব্যবস্থা করবেন।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, এরআগে গত বছর ২৪ জুলাই পিকেএসএফের সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে বেফাঁস মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ওই অনুষ্ঠানে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রকারান্তারে চোর বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমি তো এমপি, আমি জানি, টিআর কিভাবে চুরি হয়! সরকার ৩০০ টন দেয়। এর মধ্যে এমপি সাহেব দেড়শ টন চুরি করে নেন।’ এই বক্তব্যের পরপরই সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরদিন সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রত্যেক মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ক্ষমা চান। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এড়াতে ওই চিঠি দিলেও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু  প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগে এমপি, এরপর মন্ত্রী। আমি আমার এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ পাওয়া এক ছটাক গম আত্মসাৎ করেছি, এমন অভিযোগ কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব।’ পরে মুজিবুল হক চুন্নুর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনার এ ধরনের কথা বলা ঠিক হয়নি।’ জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি আমার ভুল স্বীকার করে বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে সবাইকে চিঠি দিয়েছি। এটা আমার ‘মুখ ফসকে’ বেরিয়ে গেছে। এটি আমি স্বজ্ঞানে বলিনি।’’ পরে ওইদিন সন্ধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিয়েও তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।

এর আগে গত বছর জুন মাসে ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর দল জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘জাসদ তৎকালীন ছাত্রলীগের অনেক প্রতিভাবান নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারক-বাহকরা গঠন করলো জাসদ। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারক-বাহক জাসদ এখন শতভাগ ভণ্ড।’ তারা স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্ট ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য দায়ী অভিযোগ করে তিনি বলেছিলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে একটা সফল মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিবেশ সৃষ্টি না করতো, তাহলে আজকের বাংলাদেশ ভিন্ন বাংলাদেশ হতো। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে দেশটা অনেক আগেই আরও অনেকদূর অগ্রসর হতো। কিন্তু জাসদের হঠকারিতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।’ বর্তমান মন্ত্রিসভায় জাসদের প্রতিনিধি থাকায় ভবিষ্যতে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হতে পারে বলে আশরায় ওই সময় শঙ্কা প্রকাশ করেন। আশরাফের বক্তব্যের পর জাসদ নেতারা পাল্টা জবাব দিলে দুই দলের মধ্যে ওই সময় বেশ টানাপড়েন দেখা দেয়। চলতে থাকে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে বিষয়টির নিরসন হয়। অবশ্য এর আগেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ দলের নেতারা জাসদ ও ইনুর সমালোচনা করেছেন। তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জাসদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

15 views

How useful was this post?

Click on a star to rate it!


No posts found.

*please excuse the google ads or other sponsors ads. Although Ad may show something Awesome as somewhat surprise ! 



Amazon Audible: Experience the World’s Largest Library of Audiobooks.

mcb post icon
: ) Play with MCB Posts 
as if those are your posts !

Power to Edit/Add/Improve any Post ! 

Visit  MCB Policy





My Page:

6,236 views

How useful was this post?

Click on a star to rate it!